‘তোমাকে চাই’ ভালোবাসার গল্প

রিফা এতো বড় পার্টি দেখে অবাক হয়ে যায়। কিন্তু সবাই রিফার দিকেই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। রিফার সুন্দর্য্য দেখে যে কেউ মুগ্ধ। রিফা আরও কিছু সময় এগোতেই দেখে আনাফ বেগুনি পাঞ্জাবি পরে তার দিকে তাকিয়ে আছে। পাঞ্জাবি আর শাড়িটা প্রায় হুবুহু মিলে। কিন্তু আনাফের হাসিটা রিফা বুঝতে পারছে না। আর আশেপাশের মানুষের চাহনি দেখে রিফার নিজেকে এলিয়েন মনে হচ্ছে।
রিফা-(কি ব্যাপার স্যার আমার মতো সেম কালারের পাঞ্জাবি কেন পড়েছে?)
আনাফ তো রিফাকে দেখে একদম মুগ্ধ। তার কাছে মনে হচ্ছে বেগুনি পরি আকাশ থেকে নেমে এসেচগে তার কাছে। আনাফ বুকে হাত দিলো রিফার রূপেরমোহ থেকে যেন হার্ট এ্যাটেক করবে। আনাফ তো তার পরিকে দেখতেই ব্যস্ত কিন্তু কখন থেকে যে নাহিদ তাকে ডাকছে তার তো কোনো খবরই নেই।
নাহিদ- আরেএএএএ তুইইইইইই কোথায়ায়ায়ায়ায় হারালিইইইই??(চিল্লিয়ে)
নাহিদের চিল্লানো তে আনাফের ধ্যান ভাঙ্গলো এবং বললো,”হ্যা বল”।
নাহিদ- প্রপোজ কি করবি না?
আনাফ- উম হুম রিং টা??
নাহিদ- এই নে।

বলেই একটা মিনি রিং বক্স আনাফের দিকে এগিয়ে দিলো আর আনাফও সেটা মুচকি হেসে নিলো। রিফাকে সবার মাঝখানে দাড় করিয়ে নিধি মুক্তা সরে গেলো। রিফা পেছন থেকে ওদের ডাকলেও ওরা চলে যায়। রিফা আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। কি চাচ্ছে সবাই তার কাছে?এর মধ্যে আনিফাও এসে হাজির হয়। ভাইয়ের প্রপোজাল পার্টিতে না এসে উপায় আছে?আনিফা আসতেই আনাফ চলে গেলো ইশার সামনে এবং হাটু গেড়ে বসলো। এতে রিফা আরও অবাক হয়।
আনাফ- যেদিন তোমায় প্রথম দেখি কেন জানিনা সেদিন তোমায় দেখে কোনো এক ভালোলাগা কাজ করছিলো।কিন্তু তুমি আমার দিকে একবারের জন্যও ফিরেও তাকিয়ে দেখোনি। অন্যান্য মেয়ে রা সব ইন্টারভিউ দিতে নয় আমাকে দেখতে এসেছিলো আর সেই তুমি আমাকে একবারের জন্য আমার দিকে তাকানোর প্রয়োজনবোধ করলে না। সত্যিই তুমি ছিলে একদম আলাদা এবং এখনো। দিন যেতে লাগলো ততো তোমার প্রতি আসক্ত হয়ে যাই।কিন্তু তুমি আমার সাথে একবারের জন্যেও প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বলতে না এই বিষয় টাও আমার খুব ভালো লেগেছিলো।তোমার হাসি, মায়াবি চেহারাটি বারবার তোমার প্রেমে পড়তে আমায় বাধ্য করেছে। হ্যা ভালোবেসে ফেলেছি তোমায় খুব বেশি ভালোবাসি।সবকিছুর #বিনিময়ে তোমায় চাই রিফা।উইল ইউ মেরি মি??
বলেই রিফার দিকে একটা মুচকি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে আর অপেহ্মা করছে রিফার উত্তরের। কিন্তু রিফা কিছুই বলছে না বলবে কি করে তার যে বুক ফেটে কান্না পাচ্ছে।রিফার উত্তর না পেয়ে আনাফ আবার বলে উঠল,
আনাফ- উইল ইউ মেরি মি রিফা??
রিফা- সরি স্যার আমি বিবাহিত আর আমার মন প্রাণ জুড়ে শুধু আমার স্বামীই আছে।
বলেই সেখান থেকে রিফা দৌড়িয়ে চলে গেলো।আনাফ তো পুরোই স্তব্ধ।শুধু আনাফই নয় বাকিদেরও একই অবস্থা সবাই নিশব্দতা পালন করছে। জেউ ভাবতে পারেনি রিফা মেরিড আর আনাফ তো একেবারেই না। আনাফের হাত থেকে রিংটা পড়ে গেলো। আনাফ এখনো সেই জায়গাতেই হাটু গেড়ে বসে আছে। মনে হচ্ছে কেউ তার কলিজা ছিরে নিচ্ছে। আচ্ছা এরকম টা হওয়া কি খুব প্রয়োজন ছিলো??
এগুলো ভাবতে ভাবতেই আনাফ উঠে দাড়ালো।আনিফাও সহ্য করতে পারছে না তার ভাইয়ের এমন করুণ দষা আর না পারছে কিছু বলে শান্তনা দিতে। কি বলেই বা শান্তনা দিবে? আনিফাও তো বুঝে ভালোবাসার মানুষটাকে ছেড়ে থাকা কতোটা কষ্টের তাও আবার জানতে পারে সে অন্য কারো। এটা কেউ কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারে না।

আনাফ ছাদে বসে বসে ড্রিংক করছে আর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো পুরো ফুলে লাল হয়ে আছে। তার কানের সামনে শুধু রিফার কথা গুলোই বারবার বারি খাচ্ছে “আমি বিবাহিত আর আমার মন প্রাণ জুড়ে শুধু আমার স্বামীই আছে”। আনাফের ছাদে যেতে দেখে রনিয়া ওয়াহিদ আনিফাকে জিজ্ঞেস করলো,
রনিয়া- কি হলো বল তো ছেলেটার এতো রাত অব্ধি ছাদে কি করছে ঘুমাবে না নাকি?
আনিফা কি বলে তার মা কে বোঝাবে বুঝতে পারছে না তবুও বললো,
আনিফা- মাম্মা ওই একটু এমনি হয়তো ঘুরাফেরা করছে তুমি চিন্তা করিও না গিয়ে ঘুমাও তুমি আমি গিয়ে দেখছি।
রনিয়া- আচ্ছা সেই ভালো হবে আমি যাই কেমন গুড নাইট।
আনিফা- গুড নাইট মাম্মা।(মুচকি হেসে)
তারপর রনিয়া ওয়াহিদ চলে গেলো আর আনিফাও ছাদে এলো তার ভাইকে দেখতে। আনাফ ড্রিংক করছে এটা দেখে আনিফা জলদি গিয়ে বোতম টা নিলো আর ফেলে দিলো।আনিফার কান্ডে আনাফ বলে উঠলো,
আনাফ- কি হলো ফেললি কেন আমার সুখ কি তোর সহ্য হয়না?
আনিফা- চুপ কর ড্রিংক বা স্মোক করে সব প্রব্লেম সলভ হয়না আর দুইদিন পর তুই রিফাকে এমনি ভুলে যাবি শুধু শুধু নিজেকে কস্ট দিয়ে কোন লাভ আছে?
আনাফ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে,

আনাফ-(ঢুলতে ঢুলতে) রিফা?? সে তোওঅঅ অন্যকারো কি করে সহ্য করবো আমারই চোখের সামনে আমারই ভালোবাসা অন্যকারো সাথে…..
বলেই হাসতে লাগলো। আনিফা আনাফকে হাজার চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই পারছে না।
আনাফ- জানিস আপু এতোদিন টাকাকেই সুখ বলে দাবি করতাম কিন্তু দেখ টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায়না। আজ আমার কাছে সব আছে কিন্তু যাকে মন থেকে ভালোবেসেছি সেই আজ আমার কাছে নেই। এর থেকে কস্টের কি হতে পারে বলতো?
আনিফা- প্লিজ আনাফ এমন করিস নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা কর এভাবেই দুনিয়া চলে না। ভালোবাসা যে সবসময় আনন্দই দেয় তা কিন্তু নয়। কিন্তু চিন্তা করিস না আল্লাহ তোর জন্য ভালো একজনকেই রেখেছে। জানিস তো আল্লাহ জোড়ায় জোড়ায় তৈরি করেছে। হয়তো রিফা অন্যকারো হবে এটাই হয়তো নিয়তি এখন এই নিয়তিকে মেনে নে ভাই এছাড়া যে আর কোনো উপায় নেই।
আনাফ- আমি চাইনা এমন অন্যকাউকে শুধু রিফাকে চাউ শুধু রিফাকে।
বলতে বলতে নিজের রুমে চলে গেলো আনাফ। আনিফা সেখানে দাঁড়িয়েই ভাবতে লাগলো,”আল্লাহ এরকম হওয়া কি খুব প্রয়োজন ছিলো? আমার এতো হাসিখুশি ভাইটা যে থুকে থুকে মরছে। যে কখনো ড্রিংকস এর দিকে তাকায়নি পর্যন্ত সেই কিনা আজ ড্রিংক করলো। জানিনা আল্লাহ তুমি কি চাচ্ছো।”
এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। আনাফ পরদিনই জানতে পারে রিফার হাসবেন্ড কোমায় আচগে কবে সেন্স ফিরবে তাও জানা নেই। আর এটাও জানতে পেরেছে তার হাসবেন্ডের চিকিৎসার খরচ জোগাতেই রিফা জব টা করছে। নইলে আনাফ ভেবেছিলো রিফাকে জবটা নিয়ে নিবে কিন্তু এসব শুনে আর কিছু বলতে পারেনি।আনাফও নিজেকে আস্তে আস্তে ঠিক করতে লাগলো। রিফাও অফিসে নিয়মিত আসে নইলে ইমনের চিকিৎসার খরচ মেলাতে পারবে না। আনাফ রিফাকে এখন আগের মতো পাত্তা দেয়না এখন আনাফ অনেকটা বদমেজাজি হয়ে গেছে যখন তখনই যে কাউকে কথা শোনায় বকাবকি করে। রিফাকেও অনেকবার বকা শুনতে হয়েছে। এতে রিফা অনেক কেদেছিলো কিন্তু শুনতে শুনতে এক পর্যায়ে অভ্যাস হয়ে যায়।
একদিন রিফা কাজ করছিলো ওমনি রিফার ফোনে কল আসলো। ফোন রিসিভ করে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে কেউ বলে ওঠে,”ম্যাম…..
,

Leave a Comment