চুল পড়া বন্ধ করার ও নতুন চুল গজানোর উপায়

অতিরিক্ত টেনশন, পুষ্টির অভাব ও প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা না ঘুমালে চুল পড়া খুবই স্বাভাবিক।চুল পড়া বন্ধ করতে নিয়মিত ৮ ঘণ্টা ঘুম যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি সুষম খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চাও জরুরি।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

১. রাতে ঘুমানোর আগে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন। সকালে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

২. অ্যালোভেরা জেল ব্লেন্ড করে চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুল পড়া কমানো ও মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করবে।

৩. ডিমের কুসুমের সঙ্গে সামান্য অলিভঅয়েল ও লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু দিয়ে। এটি চুল পড়া তো বন্ধ করবে এবং দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

৪. অলিভঅয়েল চুলে ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

৫. পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এর পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

নারিকেল তেল, কালোজিরা ও মেথির মিশ্রণ দিয়ে চুল পড়া বন্ধ করুন


কালোজিরা এবং মেথি কড়া রোদে শুকিয়ে একসঙ্গে গুঁড়া করে নিন। এরপর নারিকেল তেলের সঙ্গে গুঁড়ো করা মেথি ও কালোজিরে মিশিয়ে মিশ্রণটিকে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর একটি কাঁচের বোতলে রেখে দিন। এটি অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে।

মিশ্রণটি চুলে লাগানোর আগে এর সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশ্রিত করে মাথার ফাঁকা স্থানে লাগিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন। কয়েক মাসের মধ্যেই হাতেনাতে ফল পাবেন। এসব উপকরণ চুল পড়া বন্ধ করবে দ্রুতই।

নিম পাতা দিয়ে চিরতরে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় :

নিমপাতার উপকারিতার কথা কম-বেশি সবারই জানা। এটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক যা নতুন চুল গজাতে এবং চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং খুশকি দূর করে। চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে মাসখানেকের মধ্যেই।

কি কি উপাদান প্রয়োজন?

  • নিমপাতা – ১০-১২ টি
  • নারকেল তেল – পরিমানমত

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

  • নিম পাতা বেটে নিয়ে তারপর মিশ্রণটি চেপে চেপে নিম পাতার নির্যাস বের করে নেবেন।
  • তারপর নারকেল তেল এর সঙ্গে মিশিয়ে তা মাথার ত্বকে এবং পুরো চুলে ৩০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখবেন।
  • এছাড়াও চুলে অত্যধিক খুশকির সমস্যা থাকলে চুলের পরিমাণ অনুযায়ী নিম পাতা নিয়ে জলে ফুঁটিয়ে তারপর নিমপাতা গুলিকে বেটে মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন। এটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে মাথার ত্বকে কাজ করবে।
  • এছাড়াও নিমপাতার মিশ্রনের সাথে সমান পরিমাণ অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল কিংবা নারকেল তেল মিশিয়ে তেল গরম করে মাথায় লাগাতে পারেন।
  • চুল নরম এবং মসৃণ করার জন্য নিম পাতা বেটে তার মধ্যে মধু মিশিয়েও মাথার চুলে লাগাতে পারেন।
  • ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখার পর আপনি যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন সেটি দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে পারেন।
  • এছাড়াও আমলা, নিম, শিকাকাই এবং রিঠা পাউডার একসাথে মিশিয়ে তার মধ্যে পরিমাণ মতো লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক হিসেবে মাথায় ব্যবহার করতে পারেন যা চুলের বৃদ্ধির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

চুল পড়া রোধে মেথির ব্যবহার :

চুল পড়া রোধ করে চুলের বৃদ্ধির জন্য মেথি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। খুব শীঘ্র নতুন চুল গজাতে চাইলে কিংবা চুলের বৃদ্ধি করাতে চাইলে মেথি একটি উপযোগী উপাদান। এটি ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন মেথিতে উপস্থিত থাকে যা মাথার ত্বকের রক্ত চলাচলকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং আয়রন ও পটাশিয়াম। যা চুলের বৃদ্ধি ঘটায় ও অকালপক্কতা রোধ করতে সাহায্য করে এবং চুলকে মসৃণ এবং ঘন করে তোলে।

কি কি উপাদান প্রয়োজন?

  • মেথি – ২ চামচ
  • লেবুর রস – ২-৩ ফোটা

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • মাথার চুলে সরাসরি মেথি ব্যবহার করলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।
  • রাতের বেলায় দুই চামচ মেথি এক বাটি জলে ভিজিয়ে রাখুন।
  • প্রয়োজন হলে তার মধ্যে লেবুর রস যোগ করতে পারেন।
  • সারারাত ভিজিয়ে রাখার পর সকালে চুলের মধ্যে মেথি বেটে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন।
  • ৩০ মিনিট রাখার পর যে কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
  • অন্যদিকে নারকেল তেলের মধ্যে মেথি বীজ ফুটিয়ে উষ্ণ তেল চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন।
  • এটিও চুলের বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে এবং চুলের খুশকির সমস্যা দূর করবে।
  • এছাড়াও অকালপক্কতা দূর করে চুলকে আরো ঘন এবং কালো করে তুলবে।
  • সপ্তাহে একদিন করে এটি করলে এক মাসেই ব্যবধান বুঝতে পারবেন। এটি চুল পড়া রোধ করার অন্যতম একটি উপায়।

পেঁয়াজের রস দিয়ে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়:

চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে অন্যতম উপাদান হল পেঁয়াজের রস। পেঁয়াজের রসের মত অন্য কোন উপাদান এত দ্রুত চুল পরিচর্যায় সহায়তা করতে পারে না। পেঁয়াজের রসে থাকা উপাদান চুলকে আরো ঘন করে তোলে। পেঁয়াজের রসের মধ্যে উপস্থিত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ চুলের অকালপক্কতা রোধ করে। এটির নিয়মিত ব্যবহারে নতুন চুল খুব শীঘ্রই লক্ষ্য করা যায়।

কি কি উপাদান প্রয়োজন?

  • পেঁয়াজ – ১ টি
  • শাওয়ার ক্যাপ – ১ টি

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • একটি বড় মাপের পেঁয়াজ ৪ ভাগ করে কেটে নিন।
  • তারপর মিক্সিতে পেঁয়াজ টি মিশ্রিত করে নিন।
  • এরপর পেঁয়াজের মিশ্রণটি থেকে কোন নরম কাপড়ের সাহায্যে পেঁয়াজের রস আলাদা করে নিন।
  • এরপর পেঁয়াজের রস সরাসরি মাথার ত্বকে এবং চুলের দৈর্ঘ্যে লাগান।
  • মনে রাখবেন পেঁয়াজের রস মাথায় লাগানোর সময় মাথায় আঙ্গুল দিয়ে হালকা মাসাজ করবেন।
  • এরপর এক ঘণ্টা শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে চুলটা অমনি ভাবেই রেখে দেবেন।
  • কিছুক্ষণ বাদে চুল রসটা টেনে নেবে। তারপর আপনি যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন সেটি দিয়েই শ্যাম্পু করে ফেলবেন।
  • এক মাসের মধ্যেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন।
  • প্রয়োজনে চুলের বৃদ্ধির জন্য এবং চুলে উজ্জ্বলতা আনার জন্য পেঁয়াজের রস ও মধু কিংবা অলিভ অয়েল কিংবা কারি পাতা ও ব্যবহার করতে পারেন।
  • তবে যদি সরাসরি পেঁয়াজের রসের গন্ধটা নিতে না পারেন সে ক্ষেত্রে এর মধ্যে আপনার পছন্দসই এসেনশিয়াল অয়েল অল্প পরিমাণে যোগ করতে পারেন। এতে গন্ধটা কমে যাবে।
  • সপ্তাহে একদিন করে এই পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলেই পার্থক্যটা খুব শীঘ্রই দেখতে পাবেন।

নারকেল তেল দিয়ে সহজেই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় :

সুন্দর ও স্বাস্থোজ্জ্বল চুল তৈরি করার অন্যতম উপাদান হলো নারকেল তেল। কেন না যা কিছু মাথায় লাগান না কেন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারকেল তেলের সহায়তাতেই মাথায় লাগাতে হয়। নারকেল তেল সহজেই মাথার ত্বকে মিলিয়ে যায় এবং স্ক্যাল্পের গভীরে প্রবেশ করে তা চুলের পুষ্টিকে ত্বরান্বিত করে। নারকেল তেলের মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান গুলি চুলকে শক্তিশালী, পুষ্টিকর করে এবং অকালপক্কতার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। এর পাশাপাশি এর সুন্দর গন্ধ মানুষের মনে এক সুন্দর আবহ সৃষ্টি করে।

কি কি উপাদান প্রয়োজন?

  • নারকেল তেল : কয়েক চামচ

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • নারকেল তেল সরাসরি মাথার স্ক্যাল্পে ব্যবহার করা যায়।
  • তেলটি ব্যবহার করার আগে একটু উষ্ণ গরম করে নিলে তা আরো ভালো হয়।
  • উষ্ণ গরম নারকেল তেল নিয়ে মাথায় হাতের আঙ্গুল দিয়ে আস্তে আস্তে ১৫ মিনিট ধরে মাসাজ করতে হবে।
  • তারপর তা কিছু সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে।
  • এরপর হালকা কোনও শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে।
  • সপ্তাহে কমপক্ষে দুইবার এটি করতে পারেন। এর ফলে আপনার চুল আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী দিয়ে চুল পড়া বন্ধ করুন :

চুল ও ত্বকের পরিচর্যায় অন্যতম একটি উপাদান হলো অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী। এটি সরাসরি যেমন ত্বকে লাগানো যায়, তেমনি এটি খাওয়াও যায়। অ্যালোভেরা শরীরের বহু রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। মূলত চুলে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। অ্যালোভেরা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চুলে যথেষ্ট পুষ্টি জোগায়। এছাড়া এটি চুলকে আর্দ্র এবং মসৃন রাখে। এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। অ্যালোভেরা গাছের কাঁচা জেল চুলের পরিচর্যায় ব্যবহার করা হয়। অথবা দোকানের প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মাথার শুষ্ক ত্বকে লাগালে তৈলাক্ত চুলের সমস্যা, খুশকি, চুলের শুষ্কতা রোধ করা যায়।

কি কি উপাদান প্রয়োজন?

  • অ্যালোভেরা জেল – ২ চামচ

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • অ্যালোভেরা গাছের থেকে পাওয়া সাদা রংয়ের অ্যালোভেরা জেল সরাসরি স্ক্যাল্পে এবং চুলে লাগাতে পারেন কিংবা দোকানে পাওয়া প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা জেলও সরাসরি চুলে লাগাতে পারেন।
  • কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি গাছ থেকে তুলে অ্যালোভেরা জেল লাগালে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেটি একবার পরখ করে দেখে নেবেন।
  • বাজার চলতি প্যাকেটজাত আলোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।
  • এটি মাথার ত্বকে এবং চুলের গোড়া থেকে ডগা অবধি লাগিয়ে ১ ঘন্টা মত রেখে দেবেন।
  • তারপর কুসুম গরম জলে চুলটা ধুয়ে নেবেন।
  • তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারবেন চুলের পার্থক্যটা।
  • সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন এটি করতে পারেন।

লেবুর রস দিয়ে চুল পড়া বন্ধ করুন :

চুল পড়া রোধ করার একটি অন্যতম উপাদান হলো পাতিলেবু। এটি চুলে ব্যবহার করার ফলে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মূলতঃ ভিটামিন সির অভাবে চুল পড়া লক্ষ্য করা যায়। লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চুলের পতন রোধ করে। এছাড়াও, লেবু সাইট্রিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় চুলকে সুস্থ রাখে এবং চুলের অকালপক্কতা দূর করে।

কি কি উপাদান প্রয়োজন?

  • পাতিলেবু – হাফ
  • ডিম- ১ টি

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • একটি অর্ধেক পাতিলেবু নেবেন।
  • সেটির রস সম্পূর্ণ বের করে মাথার ত্বকে ৫ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করে, ১০ মিনিটের জন্য রেখে দেবেন।
  • তারপর যেকোন সালফেট মুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে মাথার চুলটা ধুয়ে নেবেন।
  • সপ্তাহে একদিন করে এই প্রক্রিয়াটি করবেন। এতে চুলে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা দূর হবে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটবে।
  • এছাড়াও লেবু, হেনা পাউডার, ডিম এর সাথে উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে মাস্ক হিসেবেও এক ঘন্টার জন্য মাথায় লাগিয়ে রাখতে পারেন। এটি ও চুলের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

নতুন চুল গজানোর উপায়

১) আমলকীর ব্যবহারে নতুন চুল গজানোর উপায়:

আমলকীকে চুলের ধনন্তরী বলা হয়ে থাকে। কেননা আমলকীতে উপস্থিত বিভিন্ন মিনারেলস্ চুলকে মজবুত করে ও চুল ঝড়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও মাথার সামনের চুল গজানোর উপায় হিসেবে আমলকী বেটে লাগালেও উপকার মেলে। এছাড়াও নতুন চুলের জন্য প্রাকৃতিক উপায় রূপে আমলকী ও কচি আমের আঁটি বেটে নিয়ে লাগাতে পারেন। এবং এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। কয়েক মাস এই পদ্ধতি ফলো করলে দেখবেন নতুন চুল অবশ্যই গজাবে।

২) টাক মাথায় চুলের হদিশ পেতে প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে কেশরাজ বা কেশুতি চারার গুন:

লের যত্নে কেশুতি পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেশের সব সমস্যা সমাধানেরর জন্য কেশুতি পাতা কেশরাজ নামেও পরিচিত ৷ মাঠে, ঘাটে, জলাশয়ের ধারে সাধারণত জন্মে থাকে এই কেশুতি পাতা।টাক মাথায় চুল গজানোর মোক্ষম উপাদান হিসেবে কেশুতি পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কেশুতি পাতা বেটে মাথায় লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে স্ক্যাল্প পরিষ্কার করে নিন। কিছুদিন পর থেকে দেখবেন আপনার চুল পড়ার সমস্যা একদম কমে গিয়েছে এবং মাথার সামনের চুল গজানোর উপায় হিসেবেও কাজ করছে। এছাড়াও নারকেল তেল ও সমপরিমাণ সর্ষের তেল নিয়ে তাতে এক টি স্পুন আমলকীর রস ও কিছুটা কেশুতি পাতার রস মিশিয়ে একটু ফুটিয়ে নিয়ে একটি তেল বানিয়ে ফেলুন। এরপর প্রতি দিন রাতে চুলের গোড়ায় ভালো করে মেখে আলতো ম্যাসাজ করে নিন অথবা দিনের বেলায় তেল মেখে সাওয়ার ক্যাপ পড়ে ঘন্টা দুই তিনেক রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে চুল পরিষ্কার করে ফেলুন দেখবেন উপকার পাবেনই।

৩) নতুন চুল গজানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে পাতিলেবুর গুন:

প্রাকৃতিক সহজলভ্য এই উপাদানকে আমরা আমাদের চুলের স্বাস্থ‍্য রক্ষার্থে ব্যবহার করতে পারি।খুশকি আমাদের চুল পরে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই প্রথমেই আমাদের খুশকিকে দূর করতে হবে। আর এই খুশকি দূর করার ফর্মুলা আপনার হাতের কাছেই আছে। শ্যাম্পু করে চুল ধোয়ার পর এক মগ জলে একটি পাতিলেবুর রস চিপে সেই জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। লেবুতে উপস্থিত প্রাকৃতিক অ্যাসিড খুশকি দূর করবে আর আপনি পেয়ে যাবেন চুল ঝড়ে পড়ার হাত থেকে মুক্তি।

৪) নতুন চুল গজানোর তেল তৈরির পদ্ধতি:

চুল পড়ার সমস্যা মোটেই নতুন সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে নতুন চুল না গজানো। নতুন চুল গজানোর উপায় হিসেবে প্রাচীন কালে বিভিন্ন তেলের ব্যবহার হত। যা আধুনিক কালের রাসায়নিক মেশানো কোনো রেডিমেট তেল নয়। প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ এই তেল মাথায় চুল গজানোর অব্যর্থ জিনিস।নারকেল তেলে মেথি, লাউ এর সিড্ স,অ্যালোভেরা, ভৃঙ্গরাজ এর রস ,আমলকী ও জবা ফুলের কুঁড়ি দিয়ে ফুটিয়ে একটি তেল বানিয়ে ফেলুন।এরপর ঠান্ডা করে মিশ্রণ টিকে রোজ রোদে দেবেন। এই তেলটি ব্যবহার করে দেখুন ভালো ফল পাবেন।

৫) সুসম আহার হল চুল গজানো অনত‍্যম উপায়:

আপনি বাইরে থেকে যাই করুন না কেন যদি ভিতর থেকে কিয়োর না হয় তবে কোন সমস্যার ই সমাধান হবে না। তাই দরকার স্বাস্থ্যকর খাবার। চুলের প্রয়োজনীয় প্রয়োজনীয় কেরটিন, বায়োটিন নামক প্রোটিন, ভিটামিন A, ভিটামিন C, ভিটামিনD এবং ক্যালসিয়াম।বিভিন্ন খাদ্যের মধ্যে দিয়ে এর প্রয়োজনীয়তা মেটাতে হবে।এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন অন্তত পক্ষে আট গ্লাস।এটিই চুল গজানোর মুখ্য প্রাকৃতিক উপায়।

৬)ধ্যানেই মাথায় চুল গজানোর উপায় নিহিত:

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে দুশ্চিন্তার হেয়ার ফল ও হেয়ার গ্রোথ রোধের অন্যতম কারণ। তাই দুশ্চিন্তা দূর করতে ধ্যান করুন এটি মাইন্ড কে রিফ্রেশ করবে।আপনি সতেজ ও ফুরফুরে থাকলে দেখবেন চুল পড়া বন্ধ হয়ে প্রাকৃতিক নিয়মেই চুলের উদ্ভব হবে।আর চুল গজানোর মোক্ষম দাওয়াই হল পর্যাপ্ত ঘুম। তাই চেষ্টা করুন রোজ কম করে আট ঘন্টা ঘুমোতে।

Leave a Comment