Freelancing – ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করুন

ফ্রিল্যান্সিং করবেন ভাবছেন, ব্যাপার না, এই বিষয় গুলো একটু দেখে নিনঃ

ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে চান, ভালো করে এই লেখাটি পড়ুন, একে একে সব বিস্তারিত পাবেন এই লেখায়। যা যা আমি আপনাদের কাছে এই লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করবো তা হলো, ফ্রিল্যান্সিং কি ও ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করে, আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিং কি এক, কি কি বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোথায় করবেন, কোন প্রতিষ্ঠান ভালো ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে, ফ্রিল্যান্সিং করার কি কি প্ল্যাটফর্ম আছে?

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করে?

আপনার ফ্রি সময়ে আপনি যে কাজ করবেন মূলত তাই ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি মূলত ফ্রি ল্যান্স থেকে এসেছে যার বাংলা অর্থ স্বাধীন বা মুক্ত ভাবে কিছু নিক্ষেপণ করা। ফ্রি ল্যান্স হচ্ছে যে প্ল্যাটফর্ম টি ব্যাবহার করে নিজের অভিজ্ঞতাকে স্বাধীন ভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টাকে বুঝানো হয়। আর ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অবসর সময়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করাকে বুঝানো হয়। ফ্রিল্যান্সার বলতে বোঝা যায় যে স্বাধীন ভাবে নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে আয় করে।

এখন অনেকেরই মাথায় চেপে বসেছে তাহলে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং হয় না, না বন্ধুরা এটা ভুল ধারনা প্ল্যাটফর্ম মানে যে শুধু মার্কেটপ্লেস তা নয়, আমি উল্লেখ করেছি প্ল্যাটফর্ম কথা টি প্ল্যাটফর্ম যে কোন কিছু হতে পারে, যেমন, কেউ যদি মনে করেন আমি দেশী কাজে গুলো করবো বিভিন্ন অফিসে ঘুরে ঘুরে কাজ নিয়ে নিজের স্বাধীন মত, এটাও ফ্রিল্যান্সিং। আবার কেউ যদি মনে করেন ই-মেইল করে কাউকে কনভেন্স করে আমি কাজ করে আয় করবো এটাও ফ্রিল্যান্সিং। আবার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কেউ যদি কাজ নিয়ে করে দিয়ে আয় করেন এটাও ফ্রিল্যান্সিং। এর মানে দারাচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করতে মার্কেটপ্লেস লাগে না। তবে হ্যাঁ মার্কেটপ্লেস হলে আপনার পেমেন্টের সিকিউরিটি শত ভাগ নিশ্চিত, তবে এটাও সত্য আপনার পুরো কাজের পেমেন্টের ২০%-৩৫% পর্যন্ত মার্কেটপ্লেসকেই দিয়ে দিতে হয়। অন্যদিকে বোনাস পেমেন্ট একটা বড় সুবিধা মার্কেটপ্লেসে।

নিজের কাজের দক্ষতা দিয়ে কাজ করে আয় করেই ফ্রিল্যান্সিং করে থাকে যেমন, কেউ গ্রাফিক্স ডিজাইনে পারদর্শী সে লোগো ডিজাইন করে ব্যানার ডিজাইন করে দিয়ে আয় করতে পারে, যে একাউন্টিংএ ভালো সে অন্য কম্পানির একাউন্ট ম্যানেজ করে আয় করতে পারে ইত্যাদি।

আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিং কি এক?

ফ্রিল্যান্সিং তো বুঝলেন চলুন এবার আউটসোর্সিং টা বুঝে নেই, তাহলেই বুঝতে পারবো এ দুটি একই কি না। আউটসোর্সিং বলতে আমরা ফ্রিল্যান্সিংকে মেনশন করে থাকি কিন্তু না আউটসোর্সিং হচ্ছে যার কাজ দরকার সে ফ্রিল্যান্সারের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিবে, তাকে বুঝায়। নিজের প্রতিষ্ঠানের কোন কাজ কাউকে নিয়োগ না দিয়ে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তির কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে করিয়ে নেয়াকেই বলা হয় আউটসোর্সিং। তার মানে দাড়ায় যে আউটসোর্সিং করে তার কাজ করে দেয় যে তাকে বলে ফ্রিল্যান্সার। তাহলে স্পষ্ট বলা যায় আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিং এক না।

বাকি লেখা পড়ার আগে ভিডিওটা সম্পূর্ণ দেখে নিনঃhttps://www.youtube.com/embed/RZeEjMv6cRg

কি কি বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়?

বর্তমানে বলা হয়ে থাকে এমন কোন কিছুই নেই যা ফ্রিল্যান্সিং করা যায় না। তবে ফিজিক্যাল কিছু কাজ ছাড়া বেশীরভাগ বিষয়ই ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব।
রাইটিং
টাইপ ও ডাটা এন্ট্রি
এক্সেল
মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট
বিজনেস কপিরাইট
ব্লগ পোস্টিং
প্রোডাক্ট ছবি আপ্লোডিং
ই-কমার্স সাপোর্ট
কল সেন্টার সাপোর্ট
ভয়েস সাপোর্ট
লিরিক্স লেখা
মিউজিক কম্পোজ
লোগো ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইন
ছবি এডিটিং
ছবি রিটাচ
ফটোশপ এডিটিং
ওয়েব মেইন্টেনেন্স
ওয়েব সাইট ডিজাইন
এস ই ও
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
ফেসবুক মার্কেটিং
ইমেইল মার্কেটিং
একাউন্টিং সাপোর্ট
ফিন্যন্স সাপোর্ট
ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট
সকল ধরনের প্রোগ্রামিং
ফোটোগ্রাফি
আর্ট
ক্রাফটিং
ভিডিও মেকিং
ভিডিও এডিটিং
ফেসবুক ম্যানেজমেন্ট
ইউটিউব ম্যানেজমেন্ট
ভিডিও মার্কেটিং
এফেলিয়েট মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং, ইত্যাদি।

এছাড়াও আরো দেখতে চাইলে মার্কেটপ্লেস গুলোর ক্যাটাগরি চেক করুন।

ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কোথায় করবেন?

ফ্রিল্যান্সিং কখনো কেউ শিখাতে পারে না। ফ্রিল্যান্সিং হল কাজ করার একটা পদ্ধতি। পার্মানেন্ট মাসিক চুক্তি তে কাজ না করে প্রজেক্ট ভিত্তিক পেমেন্ট টাইপ কাজ কেই সাধারণত ফ্রিল্যান্সিং বলে। কাজ করার একটা পদ্ধতি শেখার কিছু নেই।

কখনো কি আপনি কাউকে যেয়ে বলবেন যে আমি মাসিক বেতন এর কাজ শিখতে চাই?
বলবেন না, কারণ এই কথার কোন মানে নেই। এক ই ভাবে, আমি ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চাই, এই কথার ও কোন মানে নেই।

ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনার যে কাজের উপর ফ্রিল্যান্সিং করার ইচ্ছা সে কাজ শিখতে পারেন, সাথে সাথে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার কিছু ট্রিক্স ও টিপস গুলো শিখতে পারেন এছাড়া কিছুই না। যারা বলে ফ্রিল্যান্সিং শিখাবে তারা মূলত যে কোন একটা কাজের উপর আপনাকে অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে সাথে সাথে ফ্রিল্যান্সিং করার রাস্তাটা দেখিয়ে দেয়। এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা ভালোভাবে এই নির্দেশনা দিতে পারে এবং আপনার পছন্দনীয় কাজে আপনাকে প্রশিক্ষিত করতে পারবে। এমন কোন প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকবেন না যে খানে অল্পতে অনেক আয় করা যাবে বা কাজ শিখে আপনাকে ইনকামের পথে তারাই নিয়ে যাবে। কারণ, মনে রাখবেন যে জিনিস যত সহজে আসে সে জিনিস তত সহজে চলে যায়।

আসলেই কোন প্রতিষ্ঠান ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে ভালো?

বি আই টি এম
জানালা ডট নেট (অনলাইন ও ভিডিও কোর্স)
প্যাসিভ জার্নাল (ডিজিটাল মার্কেটিং, এফেলিয়েট মার্কেটিং অনলাইন ভিডিও কোর্স)
কোডারট্রাস্টে (অনলাইন ও অফলাইন)
শিখবে সবাই (অনলাইন ও অফলাইন)
গিগস (শুধু মেয়েদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ)
হাই-লিংক কম্পিউটার নেটোয়ার্ক (ট্রেনিং হাউস)
দি২আওয়ারজব (অনলাইন কোর্স)

এই প্রতিষ্ঠান গুলো শুধু ঢাকায় নয় সারা বাংলাদেশে ভালো। আপনি যে কোন কাজে এক্সপার্ট হন, আপনি ফ্রিল্যান্সিং না করলেও আপনার এই স্কিল আপনাকে আলাদা ভাবে চাকুরীতে সহায়তা করবে। আগে নিজের স্কিল তৈরি করুন আপনাকেই খুঁজে নিবে কাজ, কাজকে আপনার খুঁজতে হবে না।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনি কি প্রস্তুত?

চলুন অনেকটা জানলাম এখন নিজেকে একটু নিজেই বিচার করে নেই। আপনি কি আসলেই ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য প্রস্তুত? ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটা কি তা আমরা আগেই জেনেছি। এখন সব বুঝে নিজের স্কিল কি আছে তা একটু দেখি, ধরুন আপনি একজন লেখক অথবা একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার অথবা একজন ডিজিটাল মার্কেটার, যে কোন একটা কাজ নিন নিজের জন্য, কাজটি সম্পূর্ণ করুন যেমন, একটা লেখা লিখুন পছন্দের বিষয়ের উপর অথবা একটা লোগো বানান কিজের নামে। কাজ টা শেষ, এবার নিজে নিজে বার বার দেখুন দেখে প্রশ্ন করুন নিজেকে এটা কি আসলেই আপনার নিজের পছন্দ হয়েছে? যদি পছন্দ হয় তাহলে এবার এই কাজটি ৮ জন বন্ধুকে দেখান তাদেরকে বলবেন না ওটা আপনি করেছেন, তাদের পছন্দ টা বুঝুন। এর পরে আপনার চেয়ে মার্কেটে যারা ভালো দক্ষ তাদের ৩ জনের কাছে ঐ কাজটি দেখান। শেষ পর্যন্ত আপনার কাছে যদি এ কথা টা আসে, যে, হ্যাঁ চলছে তবে আরো ভালো হতে পারতো, তাহলে আপনি বুঝবেন আপনি পারবেন এখন মার্কেটপ্লেসে ও যে কোন কাজ করতে তবে এখনো অনেক শিখতে হবে। আর যদি এমন কথা আসে যে না ভালো হয়নি অথবা অনেক গুলো সমস্যা চলে এসেছে সন্তুষ্ট নন আপনি, তাহলে আরো বেশী বেশী কাজ করুন, ফ্রি কাজ করে দিতে থাকুন, বেশী বেশী শিক্ষা নিন বিভিন্ন স্থান থেকে, বেশী বেশী পড়ুন/ডিজাইন দেখুন। আপনার সন্তুষ্টি যখন আসবে তখনি কাজ শুরু করুন।

অবশ্যই শেখা শেষ করেই কাজ করার চেষ্টা করবেন না এমত স্থানে ২%-২.৫% মানুষ সফল হয় তবে প্রাক্টিস ধড়ে না রাখলে তারাও খুবি দ্রুত ঝরে পরে যায়। শিখেই নিজেকে এক্সপার্ট ভাবা অনেক অনেক বড় বোকামি। নতুনদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে শেখার পরে কমপক্ষে ৬ মাস ঐ কাজের উপরে সময় দিন, হ্যাঁ, আসলেই এটা কষ্টকর তবুও এটাই বাস্তবতা, যে কোন কিছুতে দক্ষতা অর্জনের জন্য বেশী বেশী অনুশীলন ছাড়া উপায় নেই।

ফ্রিল্যান্সিং করার কি কি প্ল্যাটফর্ম আছে?

প্ল্যাটফর্ম বলতে গেলে সম্পূর্ণ পৃথিবী আপনার প্ল্যাটফর্ম। নিজেকে প্রচার করে যেখানে থেকে কাজ নিয়ে করতে পারেন করুন এটাই আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর মূল মন্ত্র। কিছু মার্কেটপ্লেস উল্লেখ করছি যেখানে আপনারা কাজ খুঁজে নিয়ে করতে পারবেন ও আয় করতে পারবেন-

Best Bangladeshi freelancing websites:

The2hourjob.com (female)
kajkey.com
hirekoro.com
deshikaj.com
outsourcemyjob.com

Best International freelancing websites:

Fiverr
Upwork
Freelancer.com
Envato Studio
PeoplePerHour
Toptal
Guru.com
DesignCrowd
Nexxt
DesignContest
TaskRabbit
crowdSPRING
Hireable
WriterAccess
99Designs
Catalant
Bark
DesignHill
Skyword
Gigster

সর্বোপরি বলবো যারা সম্পূর্ণ আর্টিকেল টা দেখলেন তারা অবশ্যই নিজের মনস্থির করে তার পরে কাজে হাত দিবেন। কখনো মনোবল হারবেন না, আপনি অবশ্যই গেইনার হবেন। প্রথমে গরীব হতে শিখুন আল্লাহ্‌র প্রতি শুক্রিয়া আদায় করুন আল্লাহ্‌ আপনাকে ভালো স্থানে পৌঁছে দিবেন।

লেখকঃ এ এম হাসান নাসিমডিজিটাল মার্কেটার ও প্রশিক্ষক, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইন, জানালা ডট নেট

ডিজিটাল মার্কেটার, মেরী স্টোপস বাংলাদেশ।সাবেক চিফ অপারেশন অফিসার, দি ২ আওয়ার জব।

Leave a Comment