গাজর উৎপাদন পদ্ধতি এবং এর রোগ-বালাই দমন ব্যবস্থাপনা

গাজর ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ পুষ্টিকর একটি সবজি। তাছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস, শ্বেতসার এবং অন্যান্য ভিটামিন যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। তরকারি ও সালাদ হিসেবে গাজর খাওয়া যায়। এছাড়াও গাজরের হালুয়া অনেকের প্রিয় খাবার।
গাজরের জাতঃ বাংলাদেশে গাজরের কোন অনুমোদিত জাত নেই। বিদেশ থেকে বিভিন্ন জাতের গাজরের বীজ আমদানি করে চাষ করা হয়। যেমন-রয়েল ক্রস, কোরেল ক্রস, কিনকো সানটিনে রয়েল ও স্কারলেট নান্টেস। এছাড়াও আরও আছে পুষা কেশর, কুরোদা-৩৫, নিউ কোয়ারজা, সানটিনি, ইয়োলো রকেট ইত্যাদি জাতগুলো কৃষকদের নিকট জনপ্রিয়। এসব জাতের মধ্যে পুষা কেশর আমাদের দেশের জলবায়ুতে বীজ উৎপাদনে সক্ষম।
চাষ পদ্ধতি
মাটিঃ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন বেলে দোঁআশ ও দোআঁশ মাটি গাজর চাষের জন্য উপযোগী।
বীজ বপনের সময়ঃ আশ্বিন থেকে কার্তিক অর্থাৎ (মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য নভেম্বর) মাস বীজ বপনের উত্তম সময়। গাজরের বীজ থেকে অঙ্গুর বের হতে ৭-১০ দিন সময় লাগে।
জীবনকাল: বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যেতে পারে।
বীজ হারঃ শতাংশ প্রতি ২০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন।
বীজ বপনের দূরত্বঃ
সারি-সারির দূরত্বঃ ২০-২৫ সেমি
গাছ-গাছের দূরত্বঃ ১০ সেমি
জমি তৈরিঃ
১) গাজর চাষের জন্য জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে তৈরি করতে হবে।
২) গাজরের বীজ সারিতে বপন করা ভালো। এতে গাজরের যত্ন নেওয়া সহজ হয়।
৩) গাজরের বীজ খুব ছোট বিধায় ছাই বা গুড়া মাটির সাথে মিশিয়ে বপন করা ভালো।
সার ব্যবস্থাপনা: মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগ করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।
সারের নাম সারের পরিমাণ (প্রতি হেক্টর) সারের পরিমাণ (প্রতি বিঘা)
গোবর/জৈবসার ১০ টন ১-১.২৫ টন
ইউরিয়া ১৫০ কেজি ১৫-১৬ কেজি
টিএসপি ১২৫ কেজি ১৩-১৪ কেজি
এমওপি ২০০ কেজি ২১-২২ কেজি
সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
১) জমি তৈরির সময় সম্পূর্ণ গোবর ও টিএসপি এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে।
২) বাকি অর্ধেক ইউরিয়া সমান দুই কিস্তিতে চারা গজানোর ১০-১২ দিন ও ৩৫-৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
৩) অনুরুপভাবে বাকি অর্ধেক এমওপি সার চারা গজানোর ৩৫-৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
পরবর্তী পরিচর্যা:
১। বীজ থেকে চারা গজাতে ১০-২০ দিন সময় লাগতে পারে। তবে বপনের আগে বীজ (১৮-২৪ ঘন্টা) ভিজিয়ে রাখলে ৭-১০ দিনের মধ্যে চারা বের হয়।
২। চারা গজানোর ৮-১০ দিন পর ৮-১০ সেমি পরপর ১ টি করে গাছ রেখে বাকী সব উঠিয়ে ফেলতে হবে। একই সাথে আগাছা পরিস্কার ও মাটির চটা ভেঙ্গে দিতে হবে।
৩। প্রয়োজনমত সেচ দেওয়া ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। মাটির জো দেখে দুসপ্তাহ পরপর ৩-৪ টি সেচ দেয়া উৎপাদনের জন্য ভালো।

Comments

  • No comments yet.
  • Add a comment